কবিতা
- In -- শিল্প ও সাহিত্য --
- Sep 4, 2019 --
তিরিশ বছর পর দৈববশে দেখা হয়ে গেল
পুরোনো সেই দিনের মতো
চায়ের পেয়ালা হাতে হেসে থাকা চোখ
‘এখনো কি দুচামচ চিনি?’
সামান্য মামুলি কথা। তোমার এ মনে রাখাটুকু
আমার চোখের কোণে আনন্দের জল নিয়ে এল
২.
দুটি বিরহের মধ্যে জন্ম নেয় একটি ভালোবাসা
অর্থাৎ দুজন অগ্নি বুকভরে ছাইভস্ম থাকে
মনে কি পড়ে না সখি আগুনের শেষ বিন্দু দিয়ে
পুড়ে পুড়ে পুড়ে পুড়ে পুড়ে পুড়ে ছাই করলে যাকে!
মন খারাপের কবিতা
সোহরাব হাসান
মন খারাপ হলেই তাকে মনে পড়ে
মন খারাপ না হলেও। আসলে
মন আছে বলেই মনে পড়া আছে
আছে মন–পোড়াও। মনে পড়তে পড়তে
মন পুড়তে পুড়তে এতটা পথ এসেছি।
যাদের মন বলে কিছু নেই; শুনেছি
বনপোড়া হরিণীর মতো মাঝেমধ্যে
তাদেরও মন খারাপ হয়। কেউ কেউ
মনে মনে মনের মানুষ খোঁজেন;
কেউ কেউ মানুষ পেলেও মন পান না।
লালন সাঁই মনের মানুষ খুঁজতে গিয়ে
নিজেই বে-মনো হয়ে গেলেন।
আমি যাঁকে খুঁজি সে মন কাকে খোঁজে
আজও তা জানা হলো না
মন খারাপ হলেও তাকে মনে পড়ে। মন খারাপ না হলেও।
দ-য়ে দাতব্য, চ-য়ে চিৎকার
বদরে মুনীর
হে ঈশ্বর, ভূমিকম্প দাও,
একটু ফুর্তি-ফার্তা করি।
খরা-বন্যা-ঘূর্ণিঝড় দাও,
উড়ে যাই, ভেসে যাই
গরিব, কালার্ড দেশে দেশে;
দুঃখিত দৈবের বেশে
জমিয়ে জম্পেশ বৈতরণী,
একটু বিতরণ করি।
প্রকৃতির লীলা করো, প্রভু,
নয়ন জুড়ায়ে মর্ত্যে
মহামারী, মারামারি দাও,
হাঁটু-ডোবা রক্তে, উফ্,
হাঁটু ভেঙে, দুবাহু বাড়ায়ে
অল্প-বয়সিনী জীবে—
ভাড়া করি—দয়া-ধর্ম করি।
সাপুড়ে, ঝাঁপি খুলে দে
মাহমুদুজ্জামান বাবু
ঝাঁপির ভেতর কুণ্ডলী পাকিয়ে আছি নীল বিষ;
কেউটে ফলা মোচড় খায়। শোনা যায় হিসহিস
শব্দ ও নড়াচড়া? জানা হয়ে যায়, কেউ কেউ
এখনো জাগে! যেমন ঘুমহীন সমুদ্রের অগণন ঢেউ।
প্রজন্ম থেকে হরেক পুনর্জন্মে না–মেলা হিসাব
ক্রোধের আগুন হয়; বিলাপ ও শোকসন্তাপ
জমে জমে হঠাৎ মাথা তোলে প্রবাল প্রাচীর,
আর অলক্ষে যেমন লালচে লাভা জমে অগ্নিগিরির।
স্থির দৃষ্টপাত তিরের ফলার মতো ছুটে যায়;
যদিও মোহন বিণ বাজেনি এখনো। চেরা তৃষ্ণায়
ছুঁয়ে আসি ঝাঁপির ঢাকনা; ভেতর–বাহির গনগনে
সূর্যে পুড়ে যায়, আহা। বিষের থলি দোলে সংগোপনে।
খোলস বদলে হয়েছি নবীন। সতর্ক ইন্দ্রীয় পদে পদে।
ফণা তুলছি অরণ্যসবুজে। সাপুড়ে, ঝাঁপি খুলে দে।
1729344490.jpg)
1576306355.gif)
1576304475.gif)