ফাইল আটকে ঘুষের ফাঁদ! আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে খাদ্য অধিদপ্তরের দাপ্তরিক কার্যক্রম

গাজীপুর প্রতিনিধি, গাজীপুর জেলা খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে দাপ্তরিক ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে।  বিভিন্ন কাজের ফাইল নানা অজুহাতে আটকে রেখে সেবা প্রত্যাশীদের অপেক্ষায় রাখা হয়। পরে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী মো. আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হয়। একাধিক ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক সোহেল আহমেদের কাছে গেলে কখনো কাগজে ত্রুটি, কখনো নিয়মগত জটিলতা কিংবা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের পর ফাইলের ধরন ও কাজের ওপর ভিত্তি করে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। চাহিদামতো টাকা দেওয়া হলে আটকে থাকা ফাইল দ্রুত সংশ্লিষ্ট শাখায় চলে যায় কিংবা অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। যেসব ফাইল ঘিরে অভিযোগ উঠেছে এর মধ্যে—  চালকল মিলারদের লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সংক্রান্ত ফাইল, চাল-গমসহ খাদ্যশস্যের বরাদ্দ ও সরবরাহের অনুমোদন, ডিলার নিয়োগ ও নবায়ন, খাদ্যবান্ধব ও ওএমএস কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট কাজ, খাদ্যশস্য পরিবহন ও সরবরাহের বিল-ভাউচার, ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের বিল ছাড়ের প্রক্রিয়া, মিল পরিদর্শন ও খাদ্যশস্যের গুণগত মান যাচাই, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্র ও দাপ্তরিক ফাইল নিষ্পত্তি।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ফাইলে সামান্য ত্রুটি থাকলেও সেটি সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। এতে ব্যবসায়ী, মিলার, ডিলার, ঠিকাদার ও সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। পরে দ্রুত কাজের আশ্বাস পেয়ে কেউ কেউ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থ দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিডিও ফুটেজে অর্থ লেনদেন প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি ভিডিও ফুটেজে মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে এক ব্যক্তির অর্থ লেনদেনের দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে ওই ব্যক্তির  নাম মো. সিরাজুল ইসলাম  তিনি গাজীপুর জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিবহন ঠিকাদার হিসেবে জেলার পাঁচটি গোডাউনে খাদ্যশস্যসহ মালামাল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একজন নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। অথচ অভিযোগ সত্য হলে খাদ্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইলের কাজ এগিয়ে দেওয়া এবং অর্থ লেনদেনে তার মধ্যস্থতার বিষয়টি গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।  অভিযোগের বিষয়ে কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক সোহেল আহমেদ ও নিরাপত্তা প্রহরী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শফি আফজালুল আলমকে ফোন করলে ফোন রিসিভ করেনি। খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চ.দা.) মোঃ জামাল হোসেন বলেন  সত্যতা যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।