বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ - সংশ্লিষ্টদের দাবী

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি এবং সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, প্রকাশিত অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দলিল লেখক হাদিউল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা দাবি করেন, সোহেল রানা বনভূমি রেজিস্ট্রির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তারা বলেন সাব-রেজিস্ট্রার প্রতিটি দলিলের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার পরিচয়, মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র, দাগ-খতিয়ান এবং পূর্ববর্তী দলিল যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী দলিল সম্পাদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তার দায়িত্বকালীন বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার মতো কোনো অনিয়ম ঘটেনি বলেও দাবি করেন তারা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী মৌজার সিএস ৫৩ নম্বর দাগের সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে জমিটির ক্রেতা হিসেবে ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা তৌহিদুল আলম মিলকি এবং দাতা হিসেবে ফেনী সদর উপজেলার চাড়িপুর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম নাহিদের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ওই জমির ১২৯৮২/২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিলটি ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর রেজিস্ট্রি করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সাফ-কবলা দলিলের তফসিল যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সেখানে উল্লেখিত এসএ দাগ নম্বর ৫৭০, খতিয়ান নম্বর ১৮ এবং আরএস দাগ নম্বর ১০৬৯, খতিয়ান নম্বর ১৫২-এর সঙ্গে সরকারি গেজেটভুক্ত বনভূমির কোনো সম্পত্তির মিল নেই। ফলে সরকারি গেজেটভুক্ত বনভূমির কোনো সম্পত্তি ওই দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। দলিলটির লেখক হিসেবে উত্তর পেলাইদ এলাকার হাদিউল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে। তার সনদ নম্বর ১১১। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সিএস ৫৩ নম্বর দাগ অনুযায়ী কোনো দলিল সম্পাদন হয়নি। তাই সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানার বিরুদ্ধে জেনে-শুনে বনভূমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১০ সালের ৬৬২৪ নম্বর একটি সাফ-কবলা দলিলের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দলিল সম্পাদনের সময় সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন আনোয়ারুল হক এবং দলিল লেখক ছিলেন হাফিজ উদ্দিন, যার সনদ নম্বর ২৬৯। সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুরোনো কোনো দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা নির্ধারণের জন্য মূল দলিল, বায়া দলিল এবং সরকারি ভূমি রেকর্ড যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তৌহিদুল আলম মিলকি ওই এলাকায় গোডাউন নির্মাণ করে ব্যবসায়িকভাবে জমিটি ব্যবহার করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা এর ব্যবহার সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এর সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারের দলিল সম্পাদনের দায়িত্বকে সরাসরি যুক্ত করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা ঘুষ, চাপ কিংবা কোনো ব্যক্তিগত চুক্তির ভিত্তিতে নয়; বরং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত বিষয় যাচাই করেই দলিল সম্পাদনের দায়িত্ব পালন করেন। তারা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দলিল, সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড, খতিয়ান, বন বিভাগের গেজেট এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সোহেল রানা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতেও সরকারি বা গেজেটভুক্ত বনভূমি আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।